EEE শিক্ষার্থীর জন্য ৮০–৯০ হাজার টাকার ল্যাপটপ: লেনোভো আইডিয়াপ্যাড স্লিম ৩ কেন সবচেয়ে বাস্তবসম্মত
ইইইতে নতুন ভর্তি হয়ে ৮০–৯০ হাজার টাকার মধ্যে ল্যাপটপ কিনতে চাইলে শুধু প্রসেসরের নাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। পড়াশোনার সময় আপনাকে সার্কিট সিমুলেশন, প্রোগ্রামিং, সংখ্যাভিত্তিক হিসাব, প্রতিবেদন তৈরি, অনলাইন গবেষণা এবং একসঙ্গে একাধিক সফটওয়্যার চালাতে হবে। তাই শক্তিশালী প্রসেসরের পাশাপাশি পর্যাপ্ত র্যাম, দ্রুত এসএসডি এবং আরামদায়ক পর্দা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এই বাজেটে লেনোভো আইডিয়াপ্যাড স্লিম ৩ ১৫আইআরএইচ১০, কোর আই৫-১৩৪২০এইচ প্রসেসর, ১৬ জিবি র্যাম ও ৫১২ জিবি এসএসডি সংস্করণ পাওয়া গেলে এটি সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পছন্দগুলোর একটি। কনফিগারেশন ও বিক্রেতাভেদে দাম পরিবর্তিত হয়, তাই কেনার সময় ৮০–৯০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে কি না সেটি যাচাই করা জরুরি।
EEE শিক্ষার্থীর ল্যাপটপে আসলে কী প্রয়োজন?
প্রথম কয়েক বছরে সাধারণত ম্যাটল্যাব, সিমুলিংক, প্রোটিয়াস, মাল্টিসিম, আরডুইনো আইডিই, ভিএস কোড এবং হালকা ক্যাড শেখার মতো কাজ বেশি থাকবে। এর সঙ্গে নিয়মিত ব্রাউজিং, পিডিএফ পড়া, অনলাইন ক্লাস এবং প্রতিবেদন তৈরির কাজও চলবে।
এ কারণে প্রসেসরের পাশাপাশি ১৬ জিবি র্যামকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। ৫১২ জিবি এনভিএমই এসএসডি বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর জন্য শুরুতে যথেষ্ট। পর্দার ক্ষেত্রে ফুল এইচডি বা তার চেয়ে বেশি রেজল্যুশনের আইপিএস প্যানেল দীর্ঘ সময় পড়াশোনার জন্য সুবিধাজনক।
সাধারণ ইইই পড়াশোনার জন্য আলাদা গ্রাফিক্স কার্ড বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভবিষ্যতে বড় সলিডওয়ার্কস প্রকল্প, জটিল ত্রিমাত্রিক নকশা, কুডাভিত্তিক কাজ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভারী প্রকল্প করার পরিকল্পনা থাকলে আলাদা গ্রাফিক্সযুক্ত ল্যাপটপের জন্য বাজেট বাড়ানো যুক্তিযুক্ত।
কেন লেনোভো আইডিয়াপ্যাড স্লিম ৩ ভালো পছন্দ?
লেনোভো আইডিয়াপ্যাড স্লিম ৩ ১৫আইআরএইচ১০-এর কোর আই৫-১৩৪২০এইচ প্রসেসরে ৮টি কোর ও ১২টি থ্রেড রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাধারণ কাজের পাশাপাশি ম্যাটল্যাব, সার্কিট সিমুলেশন এবং একসঙ্গে একাধিক সফটওয়্যার চালানোর জন্য এটি যথেষ্ট শক্তিশালী।
১৬ জিবি ডিডিআর৫ র্যাম থাকায় একই সময়ে ব্রাউজার, পিডিএফ, সিমুলেশন সফটওয়্যার এবং কোড সম্পাদক চালানো তুলনামূলক স্বচ্ছন্দ হয়। ৫১২ জিবি এসএসডি সংস্করণ পড়াশোনার জন্য যথেষ্ট হলেও বেশি ফাইল সংরক্ষণ করতে হলে ১ টেরাবাইট সংস্করণও বিবেচনা করা যায়। তবে শুধু অতিরিক্ত সংরক্ষণক্ষমতার জন্য বাজেট অনেকটা ছাড়িয়ে যাওয়া প্রয়োজন নেই।
এই মডেলের আরেকটি সুবিধা হলো ১৫.৩ ইঞ্চির ১৯২০ × ১২০০ রেজল্যুশনের পর্দা। প্রচলিত ১৬:৯ পর্দার তুলনায় এর ১৬:১০ অনুপাত কিছুটা বেশি উল্লম্ব জায়গা দেয়। কোড লেখা, সার্কিটের নকশা দেখা, নথি পড়া এবং স্প্রেডশিটে কাজ করার সময় এই বাড়তি জায়গা বাস্তবে কাজে আসে।
আসুস ভিভোবুক ১৫ কি ভালো বিকল্প?
আসুস ভিভোবুক ১৫ এক্স১৫০৪ভিএ কোর ৫ ১২০ইউ সংস্করণও একজন ইইই শিক্ষার্থীর জন্য ভালো বিকল্প। এই প্রসেসরে ১০টি কোর ও ১২টি থ্রেড রয়েছে এবং দৈনন্দিন পড়াশোনা, প্রোগ্রামিং, অফিসের কাজ ও মাঝারি ধরনের প্রকৌশল সফটওয়্যার চালানোর জন্য যথেষ্ট ক্ষমতা আছে।
এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় র্যাম। ৮ জিবি সংস্করণ নিলে শুরুতেই সেটি ১৬ জিবিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রাখুন। কারণ ম্যাটল্যাব, একাধিক ব্রাউজার ট্যাব, পিডিএফ এবং অনলাইন মিটিং একসঙ্গে চললে ৮ জিবি র্যাম দ্রুত সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে।
যদি একই বাজেটে ১৬ জিবি র্যামসহ লেনোভো এবং ৮ জিবি র্যামসহ আসুসের মধ্যে বেছে নিতে হয়, তাহলে ইইই পড়াশোনার জন্য লেনোভো সাধারণত বেশি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হবে।
রাইজেন ৭ সংস্করণ কি আরও ভালো?
লেনোভো আইডিয়াপ্যাড স্লিম ৩-এর রাইজেন ৭ ৭৭৩৫এইচএস সংস্করণে শক্তিশালী প্রসেসরের পাশাপাশি রেডিয়ন ৬৮০এম সমন্বিত গ্রাফিক্স পাওয়া যায়। হালকা গেমিং, গ্রাফিক্সনির্ভর কাজ এবং কিছু সৃজনশীল সফটওয়্যারে এটি বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
সমস্যা হলো, এই কনফিগারেশন সাধারণত ৮০–৯০ হাজার টাকার বাজেটের ওপরে চলে যায়। শুধু রাইজেন ৭ নাম বা শক্তিশালী সমন্বিত গ্রাফিক্সের জন্য বাজেট বাড়ানোর প্রয়োজন নেই, যদি আপনার মূল কাজ ইইইয়ের নিয়মিত পড়াশোনা, সিমুলেশন এবং প্রোগ্রামিং হয়।
বাজেট কঠোরভাবে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে রাখতে চাইলে কোর আই৫-১৩৪২০এইচ ও ১৬ জিবি র্যামের সমন্বয় বেশি যুক্তিযুক্ত।
তিনটি বিকল্পের সহজ তুলনা
বিষয়
লেনোভো আইডিয়াপ্যাড স্লিম ৩
আসুস ভিভোবুক ১৫
লেনোভো আইডিয়াপ্যাড স্লিম ৩ রাইজেন ৭
প্রসেসর
কোর আই৫-১৩৪২০এইচ
কোর ৫ ১২০ইউ
রাইজেন ৭ ৭৭৩৫এইচএস
উপযুক্ত র্যাম
১৬ জিবি
১৬ জিবি নেওয়া ভালো
১৬ জিবি
মূল সুবিধা
সিমুলেশন ও একসঙ্গে একাধিক কাজ
দৈনন্দিন ব্যবহার ও বহনযোগ্যতা
শক্তিশালী সমন্বিত গ্রাফিক্স
পর্দা
১৫.৩ ইঞ্চি, ১৯২০ × ১২০০
১৫.৬ ইঞ্চি, ১৯২০ × ১০৮০
১৫.৩ ইঞ্চি, ১৯২০ × ১২০০
কার জন্য ভালো
অধিকাংশ ইইই শিক্ষার্থী
হালকা ও সাধারণ পড়াশোনা
বেশি গ্রাফিক্সক্ষমতা দরকার হলে
বাজেট বিবেচনা
৮০–৯০ হাজারের মধ্যে পাওয়া গেলে সেরা ভারসাম্য
র্যাম উন্নীত করার খরচ ধরতে হবে
সাধারণত নির্ধারিত বাজেটের ওপরে
১৬ জিবি র্যামকে কেন অগ্রাধিকার দেবেন?
একটি ল্যাপটপ আপনি শুধু প্রথম সেমিস্টারের জন্য কিনছেন না। ঠিকভাবে নির্বাচন করলে পুরো স্নাতক পর্যায়ের বড় একটি অংশ একই যন্ত্রে পার করা সম্ভব।
ম্যাটল্যাবের সঙ্গে ব্রাউজার, পিডিএফ, প্রোগ্রামিং সফটওয়্যার এবং অনলাইন ক্লাস একসঙ্গে চালালে ৮ জিবি র্যামের সীমা সহজেই বোঝা যায়। র্যাম পূর্ণ হয়ে গেলে সিস্টেম এসএসডির একটি অংশ অস্থায়ী স্মৃতি হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। ফলে দ্রুত এসএসডি থাকলেও সামগ্রিক সাড়া ধীর মনে হতে পারে।
তাই বাজেটের মধ্যে সম্ভব হলে শুরু থেকেই ১৬ জিবি নেওয়া ভালো। ৮ জিবি সংস্করণ কিনলে র্যাম বাড়ানোর সুযোগ আছে কি না এবং সর্বোচ্চ কত জিবি পর্যন্ত সমর্থন করে, সেটি আগে নিশ্চিত করুন।
আলাদা গ্রাফিক্স কার্ড কি প্রয়োজন?
অনেক নতুন শিক্ষার্থী মনে করেন প্রকৌশল পড়াশোনার জন্য অবশ্যই গেমিং ল্যাপটপ দরকার। ইইইয়ের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত সত্য নয়।
ম্যাটল্যাবের সাধারণ ব্যবহার, সিমুলিংক, প্রোটিয়াস, মাল্টিসিম, আরডুইনো, প্রোগ্রামিং এবং সাধারণ ক্যাড শেখার জন্য আধুনিক সমন্বিত গ্রাফিক্সই যথেষ্ট। আলাদা গ্রাফিক্স কার্ডের কারণে সাধারণত ল্যাপটপের দাম, ওজন, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং চার্জারের আকার বাড়ে।
আপনার ভবিষ্যৎ কাজ যদি সত্যিই আলাদা গ্রাফিক্সের ওপর নির্ভর করে, তখন সেটির জন্য বাড়তি অর্থ খরচ করা যৌক্তিক। শুধু “প্রকৌশলের শিক্ষার্থী” বলেই গেমিং ল্যাপটপ কেনা প্রয়োজন নেই।
কেনার আগে যে সাতটি বিষয় যাচাই করবেন
সঠিক মডেল নম্বর, প্রসেসর, র্যাম ও এসএসডির কনফিগারেশন চালান বা রসিদের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
র্যাম কতটুকু স্থায়ীভাবে বসানো এবং কতটুকু পরিবর্তনযোগ্য, সেটি জেনে নিন।
পর্দা আইপিএস কি না এবং উজ্জ্বলতা ও দেখার কোণ নিজের চোখে পরীক্ষা করুন।
ইউএসবি-এ, ইউএসবি-সি, এইচডিএমআই, হেডফোন সংযোগ এবং ওয়াই-ফাই ঠিকভাবে কাজ করছে কি না দেখুন।
কিবোর্ড, টাচপ্যাড, কবজা এবং চার্জারের আকার ও ওজন পরীক্ষা করুন।
ফ্রিডস সংস্করণ হলে বৈধ উইন্ডোজের জন্য অতিরিক্ত খরচ লাগবে কি না হিসাব করুন।
৮০–৯০ হাজার টাকার মধ্যে একজন নতুন ইইই শিক্ষার্থীর জন্য লেনোভো আইডিয়াপ্যাড স্লিম ৩ ১৫আইআরএইচ১০, কোর আই৫-১৩৪২০এইচ, ১৬ জিবি র্যাম ও ৫১২ জিবি এসএসডি সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পছন্দগুলোর একটি। শক্তিশালী এইচ-সিরিজ প্রসেসর, ১৬ জিবি র্যাম এবং ১৬:১০ অনুপাতের উচ্চ রেজল্যুশনের পর্দা পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের মাঝারি ধরনের প্রকৌশল কাজের জন্য ভালো ভিত্তি তৈরি করে।
আসুস ভিভোবুক ১৫ কোর ৫ ১২০ইউও ভালো বিকল্প, বিশেষ করে যদি দৈনন্দিন ব্যবহার ও তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচকে বেশি গুরুত্ব দেন। তবে ৮ জিবি সংস্করণ নিলে র্যাম ১৬ জিবিতে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখুন।
আর রাইজেন ৭ ৭৭৩৫এইচএস সংস্করণ নিঃসন্দেহে বেশি শক্তিশালী, কিন্তু সেটির জন্য বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হলে একজন নতুন ইইই শিক্ষার্থীর জন্য অতিরিক্ত খরচটি সবসময় প্রয়োজনীয় নয়।
সবশেষে, শুধু প্রসেসরের নাম দেখে নয়, ১৬ জিবি র্যাম, ভালো পর্দা, পর্যাপ্ত সংযোগ সুবিধা, ওয়ারেন্টি এবং ভবিষ্যতে উন্নীত করার সুযোগ দেখে সিদ্ধান্ত নিন। এতে এমন একটি ল্যাপটপ পাওয়া সহজ হবে, যেটি শুধু প্রথম বর্ষ নয়, পরের কয়েক বছরও আপনার পড়াশোনার কাজে ভালোভাবে সঙ্গ দেবে।
Leave a comment