এই বাজেটে ম্যানি এমটিএস সিরিজের কয়েকটি মাল্টিপ্লাগ পাওয়া যায়। তবে অধিকাংশ মডেলে দুই-পিন প্লাগ ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক মডেলে সেফটি শাটার, আলাদা সুইচ এবং সুরক্ষাব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্যও নেই। তাই ডেস্কটপ কম্পিউটারের মতো মূল্যবান ও দীর্ঘ সময় চালু থাকা যন্ত্রের জন্য ৪০০–৫০০ টাকার মধ্যে কোনো মডেলকে নিশ্চিতভাবে ‘সবচেয়ে নিরাপদ’ বলা দায়িত্বশীল হবে না। সম্ভব হলে বাজেট বাড়িয়ে অন্তত ৭০০–১,০০০ টাকা বা তার বেশি রাখুন। এমন একটি পাওয়ার স্ট্রিপ বেছে নিন, যাতে তিন-পিন আর্থযুক্ত প্লাগ, ১০ অ্যাম্পিয়ার ও ২৫০ ভোল্ট রেটিং, শক্ত তারের গোড়া এবং নির্ভরযোগ্য সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে।
মাল্টিপ্লাগ ব্যাবহারে সতর্কতা
মাল্টিপ্লাগের তারে বা অন্য কোথাও শর্ট সার্কিট হয়ে পুড়ে গেলে পুড়ে যাওয়া মাল্টিপ্লাগ আর ব্যবহার করবেন না এবং বৈদ্যুতিক টেপ দিয়ে মেরামত করে চালানোর চেষ্টা করবেন না। নতুন মাল্টিপ্লাগ কেনার আগে একজন দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে দেয়ালের সকেট, প্লাগের সংযোগ এবং আর্থিং পরীক্ষা করান। কারণ অনেক সময় মাল্টিপ্লাগ নষ্ট হয়ে যাওয়ার জন্য শুধু মাল্টিপ্লাগের মান দায়ী নাও হতে পারে। ঢিলা সকেট, দুর্বল সংযোগ, তারের ওপর চাপ, প্রয়োজনের তুলনায় সরু তার কিংবা অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক লোডও এর কারণ হতে পারে।
মাল্টিপ্লাগের তার যেখানে প্লাগ বা মূল বডিতে প্রবেশ করেছে, সেই জায়গায় বারবার বাঁক পড়লে ভেতরের তামার সূক্ষ্ম তারগুলো ধীরে ধীরে ছিঁড়ে যেতে পারে। এতে বিদ্যুৎ চলাচলের কার্যকর জায়গা কমে যায় এবং প্রতিরোধ বেড়ে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হয়। একসময় সেখানে শর্ট সার্কিট, স্পার্ক বা আগুন লাগতে পারে।
এ ছাড়া কয়েকটি সাধারণ কারণে একই সমস্যা হতে পারে:
- দেয়ালের সকেট ঢিলা হয়ে যাওয়া
- প্লাগ পুরোপুরি প্রবেশ না করা
- প্লাগ ও সকেটের সংযোগস্থল কালো বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া
- প্রয়োজনের তুলনায় সরু বা নিম্নমানের তার ব্যবহার
- মাল্টিপ্লাগের ক্ষমতার বেশি লোড দেওয়া
- কার্যকর আর্থিং না থাকা
- তারের গোড়ায় অতিরিক্ত টান বা চাপ পড়া
- ভেতরের সংযোগ বা সুরক্ষা যন্ত্রাংশে ত্রুটি থাকা
এ ধরনের সমস্যায় শুধু মাল্টিপ্লাগ পরিবর্তন করলেই স্থায়ী সমাধান নাও হতে পারে। মূল কারণ খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাজেট বাড়ালে কোন বৈশিষ্ট্যগুলো দেখবেন?
কম্পিউটারের জন্য মাল্টিপ্লাগ বা পাওয়ার স্ট্রিপ কেনার সময় নিচের বিষয়গুলো যাচাই করুন:
- তিন-পিন আর্থযুক্ত প্লাগ: শুধু তিন-পিন হলেই হবে না, দেয়ালের সকেটেও কার্যকর আর্থিং থাকতে হবে।
- স্পষ্ট বৈদ্যুতিক রেটিং: পণ্যের গায়ে ১০ অ্যাম্পিয়ার, ২৫০ ভোল্ট এবং সর্বোচ্চ ওয়াটের তথ্য লেখা থাকা উচিত।
- তিন-কোর তার: লাইভ, নিউট্রাল ও আর্থের জন্য আলাদা সংযোগ থাকা প্রয়োজন।
- শক্ত তারের গোড়া: তার বডিতে প্রবেশের জায়গাটি যেন সহজে বাঁক না খায় বা খুলে না যায়।
- ওভারলোড সুরক্ষা: অতিরিক্ত লোড হলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা থাকা ভালো।
- ফিউজ: পরিবর্তনযোগ্য ফিউজ থাকলে ত্রুটির সময় অতিরিক্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়।
- সার্জ সুরক্ষা: সার্জ সুরক্ষার দাবি থাকলে এর রেটিং ও প্রস্তুতকারকের তথ্য যাচাই করুন।
- অগ্নিরোধী আবরণ: অতিরিক্ত তাপের ঝুঁকি কমাতে ভালো মানের আবরণ গুরুত্বপূর্ণ।
- সেফটি শাটার: খালি সকেটে ধুলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তু প্রবেশের ঝুঁকি কমায়।
- চালান ও ওয়ারেন্টি: পণ্যের মডেল নম্বরসহ বিক্রয় চালান ও ওয়ারেন্টি সংরক্ষণ করুন।
শুধু প্যাকেটে ‘২৫০০ ওয়াট’ লেখা দেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন না। পণ্যের গায়ের রেটিং, তারের চিহ্ন, প্যাকেট এবং প্রস্তুতকারকের তথ্য পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
৫০০ টাকার কাছাকাছি কী পাওয়া যাচ্ছে?
রায়ানসের বর্তমান তালিকায় কয়েকটি ম্যানি মাল্টিপ্লাগ প্রায় ৫০০ টাকায় দেখা যায়:
- ম্যানি এমটিএস-৩০৫: পাঁচটি সকেট ও ১০ মিটার তার
- ম্যানি এমটিএস-১১০৩: তিনটি সকেট ও ১০ মিটার তার
- ম্যানি এমটিএস-৩০৪: চারটি সকেট ও ৬ মিটার তার
তালিকাভুক্ত তথ্য অনুযায়ী এসব মডেলে দুই-পিন প্লাগ ব্যবহার করা হয়েছে। সেফটি শাটার ও প্রতিটি সকেটের জন্য আলাদা সুইচও নেই। সুরক্ষাব্যবস্থা, তারের গঠন এবং ওভারলোড নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে যথেষ্ট বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না।
বিশেষ করে দীর্ঘ তারের সঙ্গে সুরক্ষার তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায় মূল ডেস্কটপ কম্পিউটার, মনিটর ও অন্যান্য মূল্যবান যন্ত্র একসঙ্গে চালানোর জন্য এগুলো প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত নয়।
বাজেট ৭০০ টাকা হলে কী পাওয়া যেতে পারে?
প্রায় ৭০০ টাকার মধ্যে তুলনামূলকভাবে কিছু উন্নত বিকল্প পাওয়া যায়। যেমন:
- ম্যানি এমটিএস-জি১৪৭: চারটি সকেট, তিন মিটার তার, সেফটি শাটার ও আলাদা সুইচ
- ম্যানি এমটিএস-২০৩০: তিন-পিন প্লাগ, তিনটি সকেট ও তিন মিটার তার
তবে শুধু তিন-পিন প্লাগ, সেফটি শাটার বা আলাদা সুইচ থাকলেই একটি মাল্টিপ্লাগ সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়ে যায় না। কেনার আগে এর অ্যাম্পিয়ার রেটিং, ফিউজ, ওভারলোড সুরক্ষা, তারের গঠন এবং আর্থ সংযোগ সম্পর্কে দোকান বা প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
কম্পিউটার কীভাবে সংযুক্ত করবেন?
কম্পিউটারের জন্য সবচেয়ে ভালো সংযোগব্যবস্থা হলো:
- ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করা আর্থযুক্ত দেয়ালের সকেট
- ইউপিএস সরাসরি দেয়ালের সকেটে সংযুক্ত করা
- কম্পিউটার ও মনিটর ইউপিএসের ব্যাটারি-সমর্থিত সকেটে লাগানো
ইউপিএস প্রস্তুতকারক অনুমতি না দিলে কমদামি মাল্টিপ্লাগ ব্যবহার করে ইউপিএসের আগে বা পরে একাধিক সংযোগ দেবেন না। একটি মাল্টিপ্লাগের সঙ্গে আরেকটি মাল্টিপ্লাগ লাগানোও ঝুঁকিপূর্ণ।
খুব সতর্ক থাকবেন এবং কম্পিউটারের মাল্টিপ্লাগে নিচের উচ্চক্ষমতার যন্ত্রগুলো সংযুক্ত করবেন না:
- হিটার
- ইলেকট্রিক কেটলি
- ইস্ত্রি
- রাইস কুকার
- লেজার প্রিন্টার
- আইপিএস বা বড় ব্যাটারির চার্জার
এসব যন্ত্র চালুর সময় হঠাৎ বেশি বিদ্যুৎ টানতে পারে। এতে মাল্টিপ্লাগ, প্লাগ ও দেয়ালের সকেটে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হতে পারে।
বিপদের কোন লক্ষণগুলো খেয়াল করবেন?
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত মূল সুইচ বন্ধ করে প্লাগ খুলে ফেলুন:
- প্লাগ বা তারের গোড়া অস্বাভাবিক গরম হওয়া
- পোড়া প্লাস্টিকের গন্ধ পাওয়া
- সকেট থেকে কড়কড় বা চিড়চিড় শব্দ আসা
- প্লাগ বা সকেটের চারপাশ কালো হয়ে যাওয়া
- আলো জ্বলা-নেভা বা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া
- প্লাগ ঢিলা হয়ে যাওয়া
- স্পার্ক দেখা যাওয়া
গরম প্লাগ সঙ্গে সঙ্গে খালি হাতে ধরবেন না। আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করুন এবং প্রয়োজন হলে ইলেকট্রিশিয়ানের সহায়তা নিন।
আপনার ক্ষেত্রে এখন কী করা উচিত?
যেহেতু একই জায়গায় অল্প সময়ের মধ্যে দুইবার তারের গোড়া পুড়েছে, তাই নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুন:
- পুড়ে যাওয়া মাল্টিপ্লাগ দুটি সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার বন্ধ করুন।
- বৈদ্যুতিক টেপ দিয়ে মেরামত করে পুনরায় ব্যবহার করবেন না।
- দেয়ালের সকেট ঢিলা, কালো বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না পরীক্ষা করান।
- একজন ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে আর্থিং ও সংযোগের মান যাচাই করান।
- কম্পিউটার, মনিটর ও অন্যান্য সংযুক্ত যন্ত্রের মোট বিদ্যুৎ চাহিদা হিসাব করুন।
- উপযুক্ত রেটিংয়ের তিন-পিন আর্থযুক্ত পাওয়ার স্ট্রিপ কিনুন।
- মডেল নম্বরসহ চালান ও ওয়ারেন্টির কাগজ সংরক্ষণ করুন।
- ব্যবহারের প্রথম সপ্তাহে প্লাগ, সকেট ও তারের গোড়া গরম হচ্ছে কি না নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
চূড়ান্ত পরামর্শ
কম্পিউটারের জন্য ৪০০–৫০০ টাকার মধ্যে একটি ব্র্যান্ড বা মডেলকে নিশ্চিতভাবে নিরাপদ বলার চেয়ে এই বাজেটে না কেনার পরামর্শই বেশি যুক্তিসংগত। সম্ভব হলে বাজেট বাড়িয়ে অন্তত ৭০০–১,০০০ টাকা বা তার বেশি রাখুন এবং তিন-পিন আর্থযুক্ত প্লাগ, স্পষ্ট বৈদ্যুতিক রেটিং, তিন-কোর তার, শক্ত তারের গোড়া ও নির্ভরযোগ্য সুরক্ষাব্যবস্থা দেখে পণ্য নির্বাচন করুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একই জায়গায় দুইবার পুড়ে যাওয়ায় নতুন মাল্টিপ্লাগ ব্যবহারের আগে দেয়ালের সকেট ও আর্থিং পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক ধরে নেওয়া। কারণ ত্রুটি যদি দেয়ালের সংযোগে থাকে, তাহলে শুধু নতুন মাল্টিপ্লাগ কিনলে একই ঘটনা আবারও ঘটতে পারে।
Leave a comment