Cart (0)
Sub Total: Tk 0
১৬ হাজার টাকার মধ্যে ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য কোন মনিটর ভালো?
POSTED ON July 08, 2026

১৬ হাজার টাকার মধ্যে ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য কোন মনিটর ভালো?

১৬ হাজার টাকার মধ্যে ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য মনিটর কিনতে হলে প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত ২৩.৮ বা ২৪ ইঞ্চি ফুল এইচডি আইপিএস মনিটর। এই বাজেটে প্রফেশনাল কালার গ্রেডিং মনিটর আশা করা ঠিক নয়, তবে ইউটিউব ভিডিও, ফেসবুক রিল, ক্লাস প্রজেক্ট, ফ্রিল্যান্সিংয়ের বেসিক কাজ বা সাধারণ ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য ভালো একটি আইপিএস মনিটর যথেষ্ট ব্যবহারযোগ্য হতে পারে।

এই বাজেটে শুধু বেশি হার্টজ দেখে মনিটর কেনা ঠিক নয়। ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য স্ক্রিন সাইজ, প্যানেলের মান, রঙের স্থিরতা, চোখের আরাম এবং সংযোগ সুবিধা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য ২৪ ইঞ্চি কেন ভালো?

ভিডিও এডিটিংয়ের সময় টাইমলাইন, প্রিভিউ উইন্ডো, টুলবার, ফোল্ডার এবং ব্রাউজার একসঙ্গে ব্যবহার করতে হয়। ২১.৫ বা ২২ ইঞ্চি মনিটরে কাজ করা যায়, তবে জায়গা কম মনে হতে পারে। ২৩.৮ বা ২৪ ইঞ্চি স্ক্রিনে টাইমলাইন বড় করে দেখা যায়, প্রিভিউ ভালোভাবে বোঝা যায় এবং দীর্ঘ সময় কাজ করাও তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক হয়।

তাই ১৬ হাজার টাকার মধ্যে বাজেট ও ডেস্ক স্পেস ঠিক থাকলে ২৪ ইঞ্চি মনিটর নেওয়াই বেশি যুক্তিযুক্ত।

আইপিএস প্যানেল কেন জরুরি?

ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য আইপিএস প্যানেল বেশি নিরাপদ পছন্দ। কারণ আইপিএস প্যানেলে পাশ থেকে দেখলেও রঙ ও কনট্রাস্ট তুলনামূলকভাবে স্থির থাকে। এতে ভিডিওর কালার, স্কিন টোন, ব্যাকগ্রাউন্ড এবং আলো-ছায়া বুঝতে সুবিধা হয়। ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য এই বাজেটে আইপিএস প্যানেলকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভালো। কারণ এতে সাধারণত রঙ ও ভিউয়িং অ্যাঙ্গেল বেশি স্থির থাকে। তবে শুধু প্যানেল টাইপ নয়, পোর্ট, ওয়ারেন্টি এবং ডিসপ্লে কোয়ালিটিও মিলিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে রঙ দেখে কাট, ট্রানজিশন, টেক্সট বা থাম্বনেইল ঠিক করতে হলে আইপিএস মনিটর বেশি সুবিধা দেয়।

ফুল এইচডি কি যথেষ্ট?

১৬ হাজার টাকার মধ্যে ফুল এইচডি রেজল্যুশনই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পছন্দ। ২৪ ইঞ্চি স্ক্রিনে ফুল এইচডি রেজল্যুশন সাধারণ ভিডিও এডিটিং, অনলাইন কাজ, ব্রাউজিং এবং কনটেন্ট দেখার জন্য যথেষ্ট পরিষ্কার অভিজ্ঞতা দেয়। টু-কে বা ফোর-কে মনিটর এডিটিংয়ের জন্য ভালো হতে পারে, কিন্তু এই বাজেটে সেগুলো আশা করা ঠিক নয়। তাই ফুল এইচডি, আইপিএস এবং ভালো স্ক্রিন সাইজ—এই তিনটি বিষয় আগে নিশ্চিত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

১০০ হার্টজ বা ১২০ হার্টজ দরকার কি?

ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য ১০০ হার্টজ বা ১২০ হার্টজ বাধ্যতামূলক নয়, তবে থাকলে ব্যবহার বেশি স্মুথ লাগে। স্ক্রলিং, মাউস মুভমেন্ট, টাইমলাইন নেভিগেশন এবং সাধারণ কাজ কিছুটা আরামদায়ক হয়।

তবে মনে রাখতে হবে, মনিটরের হার্টজ ভিডিও রেন্ডার স্পিড বাড়ায় না। ভিডিও এক্সপোর্ট, প্রিভিউ ল্যাগ বা সফটওয়্যার পারফরম্যান্স মূলত প্রসেসর, গ্রাফিক্স কার্ড, র‍্যাম ও এসএসডির ওপর নির্ভর করে। তাই শুধু ১৪৪ হার্টজ দেখে মনিটর না কিনে প্যানেল ও স্ক্রিন কোয়ালিটিকে আগে গুরুত্ব দিন।

১৬ হাজার টাকার মধ্যে কিছু ভালো মনিটর উদাহরণ

এই বাজেটে ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য এমন মডেল আগে দেখা ভালো, যেগুলোতে ২৩.৮ বা ২৪ ইঞ্চি স্ক্রিন, ফুল এইচডি রেজল্যুশন, আইপিএস প্যানেল এবং অন্তত একটি এইচডিএমআই পোর্ট আছে। নিচের মনিটর মডেলগুলো ১৬ হাজার টাকায় ভালো হতে পারে।

মডেলকেন দেখতে পারেন
PC Power PCG24F120U ২৩.৮ ইঞ্চি ফুল এইচডি আইপিএস ১২০ হার্টজ হওয়ায় কম বাজেটে বড় স্ক্রিন ও স্মুথ ব্যবহার চাইলে ভালো ভ্যালু অপশন হতে পারে।
ViewSonic VA240A-H ২৪ ইঞ্চি ফুল এইচডি আইপিএস ১২০ হার্টজ মডেল। ব্র্যান্ড পছন্দ ও সাধারণ এডিটিং কাজের জন্য নিরাপদ পছন্দ হতে পারে।
MSI PRO MP243L E14২৩.৮ ইঞ্চি ফুল এইচডি আইপিএস ১৪৪ হার্টজ মডেল। কাজের পাশাপাশি হালকা গেমিং বা স্মুথ ব্যবহার চাইলে দেখা যেতে পারে।
Dahua DHI-LM24-B221২৩.৮ ইঞ্চি ফুল এইচডি আইপিএস ১৪৪ হার্টজ মডেল। বাজেটের মধ্যে বড় স্ক্রিন ও বেশি রিফ্রেশ রেট চাইলে বিবেচনা করা যায়।
BenQ GW2490 Eye Care ২৩.৮ ইঞ্চি ফুল এইচডি আইপিএস মডেল। দীর্ঘ সময় কাজ করলে eye care ফিচারকে গুরুত্ব দিলে এটি ভালোভাবে দেখা যেতে পারে।

নোটঃ এই বাজেটে যদি ২৪ ইঞ্চি আইপিএস মডেল পাওয়া যায়, তাহলে শুধু বেশি হার্টজের জন্য ছোট স্ক্রিন বা দুর্বল প্যানেল নেওয়া ঠিক হবে না।

চোখের আরামের ফিচার কেন দরকার?

ভিডিও এডিটিংয়ে অনেক সময় দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে বসে থাকতে হয়। তাই চোখের সুরক্ষা ফিচার থাকা ভালো। অ্যান্টি-গ্লেয়ার স্ক্রিন আলো বা জানালার প্রতিফলন কমাতে সাহায্য করে। ফ্লিকার-ফ্রি সুবিধা স্ক্রিনের অদৃশ্য ঝিলমিল কমায়। লো ব্লু লাইট ফিচার রাতে দীর্ঘ সময় কাজ করার সময় চোখে কিছুটা আরাম দিতে পারে।

তবে কালার ঠিক করার সময় খুব বেশি ব্লু লাইট ফিল্টার চালু রাখা ভালো নয়, কারণ এতে রঙ কিছুটা বদলে দেখা যেতে পারে। এডিটিংয়ের সময় নরমাল কালার মোডে কাজ করা বেশি ভালো।

কেনার আগে যা দেখবেন

১৬ হাজার টাকার মধ্যে ভিডিও এডিটিং মনিটর কেনার আগে নিচের বিষয়গুলো মিলিয়ে নিন:

  • স্ক্রিন সাইজ ২৩.৮ বা ২৪ ইঞ্চি কিনা
  • প্যানেল আইপিএস কিনা
  • রেজল্যুশন ফুল এইচডি কিনা
  • অন্তত একটি এইচডিএমআই পোর্ট আছে কিনা
  • অ্যান্টি-গ্লেয়ার, ফ্লিকার-ফ্রি বা লো ব্লু লাইট আছে কিনা
  • স্ট্যান্ড টিল্ট করা যায় কিনা
  • ওয়ারেন্টি কত বছরের
  • দোকানে সাদা ও কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে ডেড পিক্সেল বা বড় ধরনের ব্যাকলাইট সমস্যা আছে কিনা

কোন ধরনের মনিটর এড়িয়ে চলবেন?

ভিডিও এডিটিং যদি আপনার মূল কাজ হয়, তাহলে শুধু কম দাম দেখে ১৮.৫ বা ১৯.৫ ইঞ্চি ছোট মনিটর নেওয়া ঠিক হবে না। একইভাবে শুধু বেশি হার্টজ দেখে দুর্বল প্যানেলের মনিটর নেওয়াও ভালো সিদ্ধান্ত নয়।

এই বাজেটে এড়িয়ে চলা ভালো:

  • ছোট ১৮.৫ বা ১৯.৫ ইঞ্চি স্ক্রিন
  • টিএন প্যানেল
  • শুধু বেশি হার্টজ কিন্তু দুর্বল কালার কোয়ালিটি
  • খুব কম পোর্টের মডেল
  • অস্পষ্ট ওয়ারেন্টি কন্ডিশনের মডেল

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

১৬ হাজার টাকার মধ্যে ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য ২৩.৮ বা ২৪ ইঞ্চি ফুল এইচডি আইপিএস মনিটর সবচেয়ে ভালো পছন্দ। ১০০ হার্টজ বা ১২০ হার্টজ থাকলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়, কিন্তু আইপিএস প্যানেল, ভালো স্ক্রিন সাইজ, চোখের আরাম, এইচডিএমআই পোর্ট এবং ওয়ারেন্টিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাজেটের মধ্যে ২৪ ইঞ্চি আইপিএস মনিটর পেলে সেটিই আগে দেখুন। বাজেট একটু কম হলে ২১.৫ বা ২২ ইঞ্চি ফুল এইচডি আইপিএস মনিটর নেওয়া যায়, তবে ভিডিও এডিটিংয়ের আরামের জন্য ২৪ ইঞ্চি স্ক্রিন বেশি যুক্তিযুক্ত।

Share This!
Comments

No Comments

Leave a comment
WhatsApp