পিসির স্পিড আর পারফরম্যান্স বাড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ভালো মানের RAM লাগানো। কম্পিউটার কতটা ফাস্ট চলবে কিংবা একসাথে কতগুলো অ্যাপ চালানো যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে এই মেমরির ওপর। তবে বাজারে হাজারো ধরনের RAM এর মধ্যে, আপনার পিসির জন্য সেরা RAM নির্বাচন করাটা কঠিন হতে পারে। এই ব্লগে, আমরা বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটারের জন্য আদর্শ RAM নির্বাচন করার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো।
মাদারবোর্ডের সাথে মিলবে কি না দেখে নিন: সবার আগে জানতে হবে আপনার মাদারবোর্ডে কোন ধরনের RAM সাপোর্ট করে। এখন বাজারে DDR4 আর DDR5 জেনারেশনের RAM বেশি চলে, পুরোনো পিসিতে DDR3-ও থাকতে পারে। আপনার মাদারবোর্ডের বক্সে বা কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেখলেই বুঝবেন কোনটা লাগবে।
কাজের ধরন বুঝে সাইজ বা ক্যাপাসিটি ঠিক করুন: আপনার ঠিক কত জিবি RAM লাগবে, সেটা নির্ভর করে আপনি পিসি দিয়ে কী কাজ করেন তার ওপর। সাধারণ অফিসিয়াল কাজ, ইন্টারনেট ব্রাউজিং আর হালকা গেম খেলার জন্য 8GB থেকে 16GB মেমরিই যথেষ্ট। কিন্তু যদি হেভি গেমিং, থ্রিডি অ্যানিমেশন কিংবা ভিডিও এডিটিং করতে চান, তবে 16GB থেকে 32GB বা তার চেয়ে বেশি মেমরি লাগবে।
মেগাহার্টজ (MHz) দিয়ে RAM-এর স্পিড মাপা হয়। এই স্পিড যত বেশি হবে, পিসি তত দ্রুত ডেটা প্রসেস করতে পারবে এবং হ্যাং হওয়ার চান্স কমবে। তবে RAM কেনার সময় খেয়াল রাখবেন আপনার মাদারবোর্ড সেই সর্বোচ্চ স্পিড সাপোর্ট করে কি না।
মেমরি কন্ট্রোলার কোনো ডেটা খোঁজার পর তা প্রসেস করতে যে সময় নেয়, সেটাই হলো লেটেন্সি। RAM-এর গায়ে CL-এর পাশে একটা সংখ্যা লেখা থাকে। এই সংখ্যা বা রেটিং যত কম হবে, RAM তত ফাস্ট কাজ করবে। তাই একই স্পিডের দুটো RAM-এর মধ্যে যেটির CL রেটিং কম, সেটি নেওয়া ভালো।
আজকালকার মাদারবোর্ডগুলো ডুয়াল-চ্যানেল মেমরি সাপোর্ট করে। একটি সিঙ্গেল RAM ব্যবহারের চেয়ে সমপরিমাণ মেমরির দুটি RAM জোড়ায় জোড়ায় ব্যবহার করলে (যেমন একটা ১৬ জিবির বদলে ৮ জিবির দুটি) পিসির কার্যক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।
লোকাল বা আননোন ব্র্যান্ড বাদ দিয়ে চেনা ও নামী ব্র্যান্ডের RAM নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এতে পারফরম্যান্স যেমন ভালো পাবেন, তেমনই নষ্ট হলে সহজে ওয়ারেন্টি ক্লেইম করতে পারবেন। Corsair, G.Skill, Kingston, Crucial, Team Group আর Adata-র মতো ব্র্যান্ডগুলো ভরসা করার মতো।
মেমরির সাইজ, স্পিড আর ব্র্যান্ডের ওপর দাম ওলটপালট হয়। তাই আপনার বাজেট কত আর কী কাজ করবেন, তার একটা হিসাব মিলিয়ে নিয়ে সঠিক মডেলটি বেছে নিন।
সর্বোপরি একটি ভালো মানের র্যামের জন্য এর ক্ষমতা, স্পিড, CAS লেটেন্সি এবং ডুয়াল-চ্যানেল সাপোর্ট ইত্যাদি বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
অফিসের কাজের জন্য পিসি বা ল্যাপটপ কিনতে গেলে চোখ বন্ধ করে DDR4 বা নতুন জেনারেশনের DDR5 RAM বেছে নিতে পারেন। তবে বাজারের বেশির ভাগ অফিস পিসিতে এখনও DDR4 মেমরিই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় এবং এটি বেশ নির্ভরযোগ্য। পুরোনো DDR3 জেনারেশনের চেয়ে এই RAM-গুলো অনেক বেশি ফাস্ট এবং কম পাওয়ার টানে।
DDR4 মেমরি সাধারণত 4GB থেকে শুরু করে 64GB পর্যন্ত সাইজের হয়ে থাকে। তবে এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল শিটের কাজ, মেইল আদান-প্রদান আর ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের মতো সাধারণ অফিসিয়াল কাজের জন্য 8GB থেকে 16GB RAM-ই যথেষ্ট। এর মধ্যে আপনি যদি ব্যাকগ্রাউন্ডে একসাথে অনেকগুলো অ্যাপ বা ব্রাউজারে প্রচুর ট্যাব খুলে কাজ করতে অভ্যস্ত হন, তবে ১৬ জিবি মেমরি নেওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
অবশ্য RAM কেনার আগে আপনার পিসি বা ল্যাপটপটি কতটা পুরোনো, সেটা একবার দেখে নেওয়া ভালো। বেশ কয়েক বছরের পুরোনো মাদারবোর্ড হলে সেখানে হয়তো নতুন RAM সাপোর্ট করবে না, পুরোনো DDR3 লাগাতে হতে পারে। তাই কেনার আগে পিসির ম্যানুয়াল দেখে নিন অথবা কোনো এক্সপার্টের সাহায্য নিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার ডিভাইসে ঠিক কোন মডেলের RAM সাপোর্ট করবে।
সহজ কথায়, অফিসের স্বাভাবিক কাজের চাপ সামলানোর জন্য ৮ জিবি থেকে ১৬ জিবি RAM একদম পারফেক্ট। আপনার মাদারবোর্ডের জেনারেশন মিলিয়ে সঠিক RAM-টি বেছে নিলেই পিসি স্মুথলি চলবে।
গেমারদের জন্য RAM বাছাই করার সময় মূল খেলাটাই হলো এর সাইজ আর স্পিডের ওপর। গেমিংয়ে ভালো পারফরম্যান্স পেতে এই বিষয়গুলো একটু মাথায় রাখুন:
* সাইজ (Capacity): শুধু গেম খেলার জন্য ৮ জিবি (8GB) দিয়ে কোনোমতে চললেও, নতুন গেমগুলোর জন্য এখন ১৬ জিবি (16GB) RAM থাকা মাস্ট। ১৬ জিবি মেমরি থাকলে গেম খেলার পাশাপাশি ব্যাকগ্রাউন্ডে ডিসকর্ড, ক্রোম ব্রাউজার বা স্ট্রিমিং অ্যাপ চালালেও পিসি একদম স্মুথ থাকবে।
* স্পিড (MHz): RAM-এর স্পিড যত বেশি হবে, প্রসেসর তত ফাস্ট কাজ করতে পারবে। DDR4 মেমরির ক্ষেত্রে অন্তত 3200MHz থেকে 3600MHz আর নতুন DDR5 মেমরির ক্ষেত্রে 5200MHz বা তার বেশি স্পিডের RAM নিলে গেমে চমৎকার ফ্রেম রেট (FPS) পাবেন।
* লেটেন্সি (CL): RAM ডেটা প্রসেস করতে যে সামান্য সময় নেয়, সেটাই হলো লেটেন্সি। RAM-এর বক্সে CL-এর পাশে একটি সংখ্যা (যেমন CL16 বা CL18) লেখা থাকে। এই সংখ্যা যত কম হবে, RAM তত ফাস্ট রেসপন্স করবে। তাই গেমারদের জন্য কম CL রেটিংয়ের RAM নেওয়া সবচেয়ে ভালো।
* ডুয়াল-চ্যানেল কনফিগারেশন: একটি ১৬ জিবির RAM ব্যবহারের চেয়ে সমপরিমাণ মেমরির দুটি RAM জোড়ায় জোড়ায় ব্যবহার করলে (যেমন ৮ জিবির দুটি কাঠি) মাদারবোর্ডের ব্যান্ডউইথ ডাবল হয়ে যায়। এতে গেমিং পারফরম্যান্স এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়।
* ব্র্যান্ড: হুটহাট আননোন কোনো ব্র্যান্ড না নিয়ে চেনা আর নামী ব্র্যান্ডের মেমরি নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। Corsair, G.Skill, Kingston, আর Crucial-এর মতো ব্র্যান্ডগুলোর ওপর গেমাররা চোখ বন্ধ করে ভরসা করেন।
ভারী গ্রাফিক্স ডিজাইন, থ্রিডি রেন্ডারিং কিংবা ভিডিও এডিটিংয়ের (যেমন Adobe Premiere Pro, After Effects, Blender) মতো কাজে বিশাল সাইজের ফাইল এবং ভারী সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করতে হয়। তাই সাধারণ পিসির চেয়ে এখানে মেমরির ডিমান্ড অনেক বেশি থাকে।
* সাইজ (Capacity): প্রফেশনাল কাজের জন্য শুরুতেই অন্তত ১৬ জিবি (16GB) থেকে ৩২ জিবি (32GB) RAM রাখা উচিত। আর আপনি যদি ফোর-কে (4K) বা এইট-কে (8K) লেভেলের ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ করেন, তবে কোনো ল্যাগ ছাড়া কাজ করতে ৬৪ জিবি বা তার চেয়ে বেশি মেমরির প্রয়োজন হবে।
* স্পিড ও লেটেন্সি: গেমিংয়ের মতোই কাজের পিসিতেও অন্তত ৩০০০ মেগাহার্টজ (3000MHz) বা তার বেশি স্পিডের এবং কম লেটেন্সির (যেমন CL16) RAM বেছে নিন। জটিল সব প্রজেক্টের রেন্ডারিং টাইম কমাতে এটি দারুণ সাহায্য করবে।
* ECC (Error-Correcting Code) RAM: সার্ভার বা সুপার সেনসিটিভ আর্থিক হিসাবনিকাশের মতো কাজে যেখানে ডেটা লস হওয়া মোটেও চলে না, সেখানে ECC RAM ব্যবহার করা হয়। এটি ডেটার ভেতরের যেকোনো ভুল নিজে থেকেই ঠিক করে সিস্টেম ক্র্যাশ হওয়া আটকায়। তবে মনে রাখবেন, এটি সাধারণ মাদারবোর্ডে চলে না এবং এর দামও বেশ চড়া।
* ব্র্যান্ড: কাজের জায়গায় ফুল স্ট্যাবিলিটি পেতে Corsair, G.Skill, Kingston, Crucial আর Samsung-এর মতো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের RAM বেছে নেওয়া উচিত।
দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি পণ্যের দোকান Ryans Computers-এ আপনি বিশ্বের প্রায় সব নামী ব্র্যান্ডের RAM পেয়ে যাবেন। তাদের কালেকশনে ডেক্সটপ এবং ল্যাপটপ উভয়ের জন্যই Corsair, G.Skill, Kingston, Crucial, Team Group, Adata, Patriot, Transcend আর Samsung-এর মতো টপ ব্র্যান্ডের মেমরি স্টক করা থাকে।
আপনার বাজেট আর পিসির কনফিগারেশন অনুযায়ী সঠিক ল্যাপটপ র্যাম বা ডেক্সটপ র্যাম খুঁজে পেতে তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ঘুরে দেখতে পারেন অথবা সরাসরি তাদের যেকোনো আউটলেটে গিয়ে এক্সপার্টদের সাথে কথা বলে নিতে পারেন।
No Comments
Leave a comment