IP Phone নিয়ে অনেকের মনেই অনেক প্রশ্ন রয়েছে। এটি কী ধরনের ফোন? কোন প্রযুক্তিতে চলে এই ফোন? প্রচলিত ল্যান্ডলাইনের সাথে এই ফোনগুলোর পার্থক্যই বা কী? চলুন, এই সব প্রশ্নের উত্তর ধাপে ধাপে জেনে নেওয়া যাক।
আইপি ফোন (Internet Protocol Phone) হচ্ছে এমন এক ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বা ডিভাইস, যার মাধ্যমে ইন্টারনেটের সংযোগ ব্যবহার করে ভয়েস কল করা যায়। প্রথাগত বা ট্রাডিশনাল ল্যান্ডফোন সিস্টেমের তুলনায় এই ফোন ব্যবহার করা অনেক বেশি সাশ্রয়ী। এটি মূলত VoIP (Voice over Internet Protocol) প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ করে বলে একে অনেকেই VoIP ফোনও বলে থাকেন।
এই ফোনগুলো সাধারণত ডেস্ক ফোন, কনফারেন্স ফোন কিংবা কর্ডলেস ফোন হিসেবে বাজারে পাওয়া যায়। দেখতে সাধারণ টেলিফোনের মতো মনে হলেও, আধুনিক ফিচার এবং ব্যবহারিক সুবিধার দিক থেকে এগুলো সাধারণ টেলিফোনের চেয়ে অনেক উন্নত ও শক্তিশালী।

আইপি ফোন এবং প্রচলিত ল্যান্ডলাইন ফোনের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো যোগাযোগের পদ্ধতি। প্রচলিত ফোনগুলো PSTN (পাবলিক সোইচড টেলিফোন নেটও য়ার্ক) এর মাধ্যমে সংকেত পাঠায় এবং গ্রহণ করে, যা তামা তার বা ফাইবার অপটিক্স ব্যবহার করে, যেখানে আইপি ফোন ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভয়েস ডেটা প্যাকেট পাঠায়।

১) ইন্টারনেট সংযোগ: আইপি ফোন ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত হলো একটি স্থিতিশীল (Stable) এবং নির্ভরযোগ্য উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ।
২) আইপিটিএসপি (IPTSP) সেবা প্রদানকারী: ব্যক্তিগত বা বাসাবাড়িতে ব্যবহারের জন্য আপনাকে একটি অনুমোদিত আইপিটিএসপি সেবা প্রদানকারীর সংযোগ নিতে হবে (যা আপনাকে ০৯৬ দিয়ে শুরু হওয়া একটি নম্বর প্রদান করবে)। আর প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যবসায়িক সেটআপের ক্ষেত্রে একটি আইপি-পিএবিএক্স (IP-PABX) সিস্টেমের প্রয়োজন হবে।
৩) রাউটার বা সুইচ: আপনার আইপি ফোনটি নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করার জন্য পর্যাপ্ত ব্যান্ডউইথ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি রাউটার বা সুইচের প্রয়োজন হবে।
৪) বিদ্যুৎ সরবরাহ: নিশ্চিত করুন যে আপনার আইপি ফোনে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ রয়েছে। এটি সাধারণত একটি স্ট্যান্ডার্ড পাওয়ার অ্যাডাপ্টারের মাধ্যমে অথবা সরাসরি ইথারনেট কেবলের মাধ্যমে (পাওয়ার ওভার ইথারনেট বা PoE) আসতে পারে।
১) রাউটার বা সুইচে সংযোগ: প্রথমে আইপি ফোনের ইথারনেট (LAN) কেবলটির এক প্রান্ত ফোনের WAN পোর্টে এবং অন্য প্রান্তটি আপনার রাউটার বা সুইচের যেকোনো একটি খালি পোর্টে সংযুক্ত করুন।
২) বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা: আপনার আইপি ফোনটি যদি পাওয়ার ওভার ইথারনেট (PoE) সমর্থন করে এবং আপনার সুইচ বা রাউটারেও যদি PoE সুবিধা থাকে, তবে এটি কেবল থেকেই সরাসরি বিদ্যুৎ পাবে। অন্যথায়, ফোনের সাথে থাকা স্ট্যান্ডার্ড পাওয়ার অ্যাডাপ্টারটি বৈদ্যুতিক সকেটে যুক্ত করে ফোনের পাওয়ার অন করুন।
৩) কনফিগারেশন সম্পন্ন করা: ফোনটি চালু হওয়ার পর ডিসপ্লেতে নেটওয়ার্ক পাওয়ার সংকেত দেখাবে। এবার আপনার আইপিটিএসপি (IPTSP) প্রোভাইডারের দেওয়া ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে (প্রয়োজনে ব্রাউজারের মাধ্যমে ফোনের আইপি অ্যাড্রেসে ঢুকে) কনফিগারেশন সেটআপ সম্পন্ন করুন।
খুব সাধারণ এই কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করেই আপনি আপনার আইপি ফোনটিকে নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করে কল করা শুরু করতে পারবেন।
১) খুবই কম খরচে যোগাযোগ: যেহেতু এই ফোন সম্পূর্ণ ইন্টারনেট নির্ভর তাই এতে বাড়তি কোন কল রেট-এর ঝামেলা নেই বা মাসিক কোন বিলও আসবে না।
২) বহির্বিশ্বের সাথে যোগাযোগ: এধরনের ফোনের জন্য সাধারণ ফোন কিংবা মোবাইল ফোনের মতো নেটওয়ার্ক প্রয়োজন হয় না। এই ফোনগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে বলে এর মাধ্যমে বিশ্বের যে কোন প্রান্তে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়।
৩) খরচের ওপর নিয়ন্ত্রণ: আপনি নিজে ঠিক করতে পারবেন কত ডাটা ব্যবহার করবেন। অপ্রয়োজনীয় কল এড়িয়ে ডাটা সেভ করতে পারবেন।
৪) কনফারেন্স কল: এধরনের ফোনের মাধ্যমে কনফারেন্স কলও করা যায়, অর্থাৎ একাধিক ব্যক্তির সাথে একই কলে কথা বলা যায়।
৫) ভিডিও কল: কিছু কিছু আইপি ফোনের মডেলে ভিডিও কলিংয়ের সুবিধা রয়েছে। ফলে ভিডিও কলের জন্য আর বাড়তি কোন ডিভাইসের প্রয়োজন হয় না।
৬) অন্যান্য সুবিধা: মডেল ভেদে আইপি ফোনগুলোতে কল ফরোয়ার্ডিং, ভয়েসমেইল, কল রেকর্ডিং, কল ট্রান্সফারিং ইত্যাদি সুবিধা পাওয়া যায়।
আজকের ডিজিটাল যুগে, আইপি ফোন ব্যবসা ও ব্যক্তিগত কাজে অপরিহার্য এক টুল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ব্যবসায়িক কল সেন্টার থেকে শুরু করে রিমোট ওয়ার্ক এনভায়রনমেন্টে আইপি ফোনের ব্যবহার মানুষের যোগাযোগ পদ্ধতিতে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে, যেখানে কল ফরোয়ার্ডিং, ভিডিও কনফারেন্সিং এবং ভয়েসমেইল ইন্টিগ্রেশনের মতো বৈশিষ্ট্যগুলো যুক্ত হয়েছে।
বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের গ্রাহকদের সেবা দিতে যেমন এধরনের ফোন ব্যবহার করছে তেমনি নিজেদের মধ্যকার যোগাযোগের জন্য পুরনো ল্যান্ডফোনের পরিবর্তে আইপি ফোনের দিকে ঝুঁকছে।
No Comments
Leave a comment